ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি রাজ্যে নতুন করে দুজন রোগী শনাক্ত হয়েছেনছবি: রয়টার্স
বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনায় এসেছে নিপাহ ভাইরাস। কারণ ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি রাজ্যে নতুন করে দুজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। খবরটি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও। আক্রান্তের সংখ্যা হিসেবে ‘দুই’ খুবই নগণ্য মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনের ভয়টা আসলে সংখ্যার চেয়ে অনেক বড়। কারণ নিপাহ এমন এক ভাইরাস, যাতে আক্রান্ত হলে অর্ধেকের বেশি রোগীই মৃত্যুবরণ করেন।
ভাইরাসটির নামের উৎস মালয়েশিয়ার একটি গ্রাম। গ্রামটির নাম ‘সুঙ্গাই নিপাহ’। সেখানেই ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল। হাম ও নিপাহ একই গোত্রের ভাইরাস। আমাদের দেশে হাম খুব বিরল কিছু নয়। তবে হাম যতটা দ্রুত ছড়ায়, নিপাহ ততটা সংক্রামক নয়। কিন্তু প্রাণঘাতী হওয়ার দিক থেকে নিপাহ অনেক বেশি ভয়ংকর।
নিপাহ ভাইরাসের প্রতীকী ছবিছবি: টেক এক্সপ্লোরিস্ট
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় জুনোটিক ভাইরাস। অর্থাৎ এই ভাইরাস মূলত প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে আসে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয় সংক্রমিত শূকর বা বাদুড়ের সরাসরি সংস্পর্শে এলে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ফল খাওয়ার সময়ও ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে সেই ফল বা ফলজাত খাবার যদি সংক্রমিত ফলখেকো বাদুড়ের লালা বা মূত্র দ্বারা দূষিত হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় অনেকেই কাঁচা খেজুরের রস পান করেন। মূলত এর মাধ্যমেই এ অঞ্চলে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা বেশি ঘটে।
ভাইরাসটির নামের উৎস মালয়েশিয়ার একটি গ্রাম। গ্রামটির নাম ‘সুঙ্গাই নিপাহ’। সেখানেই ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল। হাম ও নিপাহ একই গোত্রের ভাইরাস।
মানুষ থেকে মানুষেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। তবে এর জন্য খুব কাছাকাছি আসা ও দীর্ঘক্ষণ সংস্পর্শে থাকা প্রয়োজন। সাধারণ হাঁচি-কাশিতে এটি সহজে ছড়ায় না। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা সেবাদানকারীদের জন্য ঝুঁকি থেকেই যায়।
নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের পর চার দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষণ প্রকাশ পায়। শুরুটা হয় একেবারে সাধারণ ফ্লুর মতো। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি ও গলা ব্যথা দেখা যায়।
এই সাধারণ লক্ষণগুলোর আড়ালেই লুকিয়ে থাকে ভয়াবহ পরিণতি। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই রোগটি মারাত্মক রূপ নেয়। মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন। কারও কারও শ্বাসকষ্ট হয়, কাশি দেখা দেয়, এমনকি বুকের এক্স-রেতেও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে।
এই ভাইরাসটি বিশেষভাবে আঘাত করে মস্তিষ্কে। একে বলা হয় এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের টিস্যুর প্রদাহ। ব্রেন স্ক্যান করলে টিস্যু নষ্ট হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়। যারা সংক্রমণের পরও বেঁচে যান, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি ও স্নায়বিক সমস্যার মতো জটিলতা থেকে যায়। কখনো কখনো সেটা বছরের পর বছর ধরে ভোগায়।
নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের পর চার দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষণ প্রকাশ পায়। শুরুটা হয় একেবারে সাধারণ ফ্লুর মতো।
এই ভয়াবহতার কারণেই নিপাহ ভাইরাসকে সিডিসি ‘বায়োসেফটি লেভেল ফোর’-এ রেখেছে। এই শ্রেণিতে ইবোলার মতো সবচেয়ে বিপজ্জনক জীবাণুগুলো থাকে। এমনকি একে জৈব সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য অস্ত্র হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এখন পর্যন্ত বড় আকারে খুব বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা না গেলেও এর উচ্চ মৃত্যুহার এবং কোনো কার্যকর টিকা বা ওষুধ না থাকায় একে গুরুতর জনস্বাস্থ্য হুমকি হিসেবে ধরা হয়।
নিপাহ শনাক্ত করতে সাধারণত রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়ছবি: এনডিটিভি
নিপাহ শনাক্ত করতে সাধারণত রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু শনাক্ত করা গেলেও চিকিৎসার সুযোগ খুবই সীমিত। নিপাহের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। রোগীদের কেবল সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়। যাঁদের স্নায়বিক জটিলতা গুরুতর হয়ে ওঠে, তাঁদের শ্বাস নিতে যন্ত্রের সাহায্য লাগে। হেপাটাইটিস-সি চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘রিবাভিরিন’ নামে একটি ওষুধ কিছু ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়, তবে এর ফলাফল সবসময় একরকম হয় না।
এ কারণে চিকিৎসকেরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন নিপাহ প্রতিরোধে। প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ কমানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সেবাযত্নের সময় কঠোর নিরাপত্তা মানা এখন পর্যন্ত বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
নিপাহ শনাক্ত করতে সাধারণত রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু শনাক্ত করা গেলেও চিকিৎসার সুযোগ খুবই সীমিত। নিপাহের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি।
নিপাহর প্রাদুর্ভাব প্রায় প্রতিবছরই এশিয়ার কিছু অঞ্চলে দেখা যায়। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরে এর উপস্থিতি বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশে সংক্রমণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ এ অঞ্চলে যে বড় আকারের ফলখেকো বাদুড় নিপাহ ভাইরাস বহন করে, তারা এ দেশেরই স্থানীয় প্রাণী। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মে মাসের মধ্যে নিপাহ সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। কারণ এ সময়টা বাদুড়ের প্রজনন মৌসুম এবং আমাদের দেশে খেজুরের রস সংগ্রহের সময়।
এশিয়ার বাইরে চীন, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মাদাগাস্কার ও ঘানার বাদুড়ের শরীরেও এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে নিপাহ খুবই বিরল। ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭৫৪ জন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। তাই মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সচেতনতাই একমাত্র পথ।
১৯২৩ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন উইলহেলম রন্টজেন। অদৃশ্য এক্স-রশ্মির সন্ধান পেয়ে তিনি বদলে দেন চিকিৎসা ও আধুনিক বিজ্ঞানের গতিপথ। তিনিই পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী। রন্টজেনের মৃত্যুদিনে বিজ্ঞানচিন্তার পক্ষ থেকে রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।
প্রদীপ দেব
শিক্ষক ও গবেষক, আরএমআইটি, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৪১
শেয়ার করুন
উইলহেলম রন্টজেন
১৮৯৬ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে আমেরিকার বিখ্যাত পিয়ারসন্স ম্যাগাজিনে বিজ্ঞানী উইলহেলম রন্টজেনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারটির কিছু অংশ এ রকম:
‘কত তারিখের ঘটনা?’
‘নভেম্বরের ৮ তারিখ।’
‘কী আবিষ্কার করেছেন?’
‘আমি একটি ক্রুকস টিউব নিয়ে গবেষণা করছিলাম। টিউবটিকে আমি কালো কার্ডবোর্ড দিয়ে চারদিক থেকে ঢেকে দিয়েছিলাম। একটি বেরিয়াম প্লাটিনো-সায়ানাইড পেপার রাখা ছিল বেঞ্চের ওপর। ক্রুকস টিউবের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎপ্রবাহ চালানোর সময় দেখলাম, বেরিয়াম প্লাটিনো-সায়ানাইড পেপারে অদ্ভুত একটি কালো দাগ পড়েছে।’
‘কিসের দাগ?’
‘এ রকম দাগ বেরিয়াম প্লাটিনো-সায়ানাইড পেপারে শুধু সরাসরি আলো প্রবেশ করলে পড়তে পারে। কিন্তু টিউব থেকে আলো আসার কোনো উপায় ছিল না। কারণ, আমি টিউবের চারদিক মোটা কার্ডবোর্ড দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলাম। টিউবের ভেতর বিদ্যুৎ প্রবাহে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হলেও তার কোনো আলো বাইরে আসবে না।’
‘তখন আপনি কী ভাবলেন?’
‘আমি কিছু ভাবিনি। আমি অনুসন্ধান করেছি। আমি ধারণা করতে পেরেছিলাম যে টিউব থেকেই এটা এসেছে। আমি আরও পরীক্ষা–নিরীক্ষা করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার আর কোনো সন্দেহ রইল না। টিউবের ভেতর থেকে কোনো রশ্মি বের হয়ে এসে বেরিয়াম প্লাটিনো-সায়ানাইড পেপারে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কালো দাগ তৈরি করেছে। আমি টিউব থেকে পেপারের দূরত্ব অনেক বাড়ানোর পরও, এমনকি দুই মিটার দূর থেকেও এই দাগ পাচ্ছিলাম। শুরুতে মনে হয়েছিল এটা একটি নতুন ধরনের অদৃশ্য আলো। এখন পরিষ্কার যে এটা সম্পূর্ণ নতুন একটা কিছু, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’
প্রফেসর রন্টজেন বললেন, ‘আমি টিউবটিকে কালো কার্ডবোর্ড দিয়ে চারদিক থেকে ঢেকে দিয়েছিলাম। একটি বেরিয়াম প্লাটিনো-সায়ানাইড পেপার রাখা ছিল বেঞ্চের ওপর।’
প্রফেসর রন্টজেন সেদিন জানতেন না তিনি কী আবিষ্কার করেছেন। জানতেন না বলেই এই অজানা রশ্মির নাম তিনি দিয়েছিলেন এক্স-রে। কেউ কেউ তাঁর নামে রন্টজেন-রে রাখতে চেয়েছিলেন এই রশ্মির নাম। কিন্তু তা টেকেনি। এক্স-রে নামই রয়ে গেছে। [ইংরেজি উচ্চারণে উইলহেলম রন্টজেন বলা হলেও জার্মান উচ্চারণে তা বিলহেল্ম রন্টগেন। ইংরেজি উইলহেলম রন্টজেন থেকে আমাদের বাংলা উচ্চারণে রন্টজেন কীভাবে যেন হয়ে গেছে রঞ্জন। বাংলায় লেখা অনেক বইতে এক্স-রেকে রঞ্জন রশ্মি বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এক্স-রের প্রতিশব্দ হিসেবে রঞ্জন-রশ্মি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।]
এক্স-রে যখন আবিষ্কৃত হয়, ১৮৯৫ সালের নভেম্বরে, তখনো কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের অনেক মৌলিক ব্যাপারই আবিষ্কৃত হয়নি। কিন্তু এক্স-রে আবিষ্কারের পরপরই অনেক কিছু আবিষ্কৃত হয়েছে, যার ওপর দাঁড়িয়ে গেছে পুরো বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞান। ১৮৯৬ সালে ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল আবিষ্কার করলেন রেডিও-অ্যাকটিভিটি বা তেজস্ক্রিয়তা।
স্যার জোসেফ জন টমসনছবি: উইকিপিডিয়া
১৮৯৭ সালে স্যার জোসেফ জন টমসন আবিষ্কার করলেন পদার্থের মৌলিক কণা ইলেকট্রন। পরীক্ষাগারে এক্স-রে আবিষ্কার করার কৌশল জানা হয়েছে ইলেকট্রন আবিষ্কারেরও আগে। অথচ পদার্থের পরমাণুর ইলেকট্রনের মিথস্ক্রিয়ার ফলেই যে এক্স-রে উৎপন্ন হয়, তা জানা গেছে আরও অনেক বছর পর, যখন কোয়ান্টাম মেকানিকস ও পরমাণুর কোয়ান্টাম তত্ত্ব ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করতে শুরু করেছে।
এক্স-রে আবিষ্কারের ১৬ বছর পর ১৯১১ সালে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড প্রোটন আবিষ্কার করেন। তার দুই বছর পর নীলস বোর পরমাণুর গ্রহণযোগ্য কোয়ান্টাম মডেল উপস্থাপন করেন। পরমাণুর গঠন ও ইলেকট্রনের কোয়ান্টাম ধর্ম থেকে আমরা এখন এক্স-রে কীভাবে উৎপন্ন হয়, তা ব্যাখ্যা করতে পারি।
১৮৯৭ সালে স্যার জোসেফ জন টমসন আবিষ্কার করলেন পদার্থের মৌলিক কণা ইলেকট্রন। পরীক্ষাগারে এক্স-রে আবিষ্কার করার কৌশল জানা হয়েছে ইলেকট্রন আবিষ্কারেরও আগে।
এক্স-রে কী ধরনের রশ্মি, তা সেদিন অজানা থাকলেও আজ আমরা এক্স-রে সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি। এক্স-রে অতি–উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িৎ-চুম্বক তরঙ্গ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অত্যন্ত কম এবং শক্তি অত্যন্ত বেশি। এক্স-রের কম্পাঙ্ক ৩x১০১৬ হার্জ থেকে ৩x১০১৯ হার্জ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ এই রশ্মিগুলো ১ সেকেন্ডে ৩x১০১৯ তরঙ্গ তৈরি করতে পারে। এই তরঙ্গগুলোর দৈর্ঘ্য অত্যন্ত কম, ১০ ন্যানোমিটারেরও কম (১ মিটারকে ১০০ কোটি ভাগ করলে এক ভাগের দৈর্ঘ্য হবে এক ন্যানোমিটার)।
স্বাভাবিকভাবেই এত ছোট তরঙ্গ চোখে দেখা যায় না। এই এক্স-রে খুব সহজেই আমাদের শরীর ভেদ করে চলে যেতে পারে। যেকোনো বস্তুর একদিকে ঢুকে অন্যদিকে বের হয়ে যেতে পারে। এক্স-রে কোনো চার্জ বহন করে না। ফলে কোনো ধরনের তড়িৎ-ক্ষেত্র বা চৌম্বক-ক্ষেত্রে বাধা পড়ে না।
দৃশ্যমান আলো ও এক্স-রে একই তড়িৎ-চুম্বক তরঙ্গ পরিবারের সদস্য হলেও এক্স-রে আলোর মতো প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হয় না। এক্স-রের কোনো ভর নেই, তাই এক্স-রে পদার্থ নয়। এক্স-রে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না কিংবা অনুভবও করা যায় না। এক্স-রে তৈরি করে কোথাও জমা করেও রাখা যায় না। এক্স-রে তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করে ফেলতে হয়।
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এক্স-রের ব্যবহার অনেক বাড়ছে। এখন এয়ারপোর্টের চেকিং থেকে শুরু করে মহাশূন্যের এক্স-রে অবজারভেটরি পর্যন্ত এক্স-রের বহুবিধ ব্যবহারে আমরা অভ্যস্ত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক্স-রের ব্যবহার যে কত প্রয়োজনীয়, তা আমরা সবাই জানি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক্স-রের সাহায্যে যে রেডিওগ্রাফ তৈরি করা হয়, সেটাকেই আমরা এক্স-রে বলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ কোটি মেডিকেল এক্স-রে তৈরি করা হয় রোগনির্ণয়ের জন্য।
এক্স-রের কোনো ভর নেই, তাই এক্স-রে পদার্থ নয়। এক্স-রে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না কিংবা অনুভবও করা যায় না। এক্স-রে তৈরি করে কোথাও জমা করেও রাখা যায় না।
অর্থাৎ পৃথিবীতে গড়ে প্রতি দুজন মানুষের মধ্যে একজনের শরীরে কমপক্ষে একবার মেডিকেল এক্স-রে প্রয়োগ করা হচ্ছে প্রতিবছর [এক্স-রের ব্যবহার কম্পিউটার বা মুঠোফোনের ব্যবহারের চেয়েও অনেক বেশি। এই কম্পিউটার ও মুঠোফোনের আবিষ্কারকেরা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষের তালিকায় একদম শুরুর দিকে থাকেন। কিন্তু এক্স-রে আবিষ্কারক বিজ্ঞানী রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কারের মেধাস্বত্ব বিনা মূল্যে দিয়ে দিয়েছেন পৃথিবীর মানুষের জন্য। শেষ বয়সে ভীষণ অর্থকষ্টে ভুগে হতদরিদ্র অবস্থায় ক্যানসারে মৃত্যু হয়েছে এই বিজ্ঞানীর। সে যা–ই হোক, মহৎ হতে গেলে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়]।
বিজ্ঞানী রন্টজেনের গবেষণাগারছবি: সিমেন্স হেলথিনিয়ার্স মেড মিউজিয়াম
একেক কাজের জন্য একেকভাবে এক্স-রে উৎপাদন করা হয়, যদিও এক্স-রে উৎপন্ন হওয়ার মূলনীতি সব ক্ষেত্রে এক। দেখা যাক, চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোগ নির্ণয় করার জন্য ডায়াগনস্টিক এক্স-রে কীভাবে উৎপাদন করা হয়। এক্স-রে উৎপাদনের জন্য কোনো ধরনের কাঁচামাল লাগে না। এক্স-রে মেশিনের যেখানে এক্স-রে উৎপন্ন হয়, সেটি একটি বায়ুশূন্য টিউব।
সেই ১৮৯৫ সালে রন্টজেন যে রকম বায়ুশূন্য ক্রুকস টিউবে প্রথম এক্স-রে তৈরি করেছিলেন নিজের অজান্তে, এখন এই ১২৫ বছর পরও একইভাবে এক্স-রে তৈরি করা হয়। কম্পিউটার ও অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে রেডিওগ্রাফ তৈরির পদ্ধতিটা বদলে গেছে। কিন্তু এক্স-রে উৎপাদনের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এক্স-রে আবিষ্কারক বিজ্ঞানী রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কারের মেধাস্বত্ব বিনা মূল্যে দিয়ে দিয়েছেন পৃথিবীর মানুষের জন্য। শেষ বয়সে ভীষণ অর্থকষ্টে ভুগে হতদরিদ্র অবস্থায় ক্যানসারে মৃত্যু হয়েছে এই বিজ্ঞানীর।
এক্স-রে টিউবের একদিকে থাকে ক্যাথোড বা ফিলামেন্ট। তার দুই সেন্টিমিটার দূরে থাকে অ্যানোড বা টার্গেট। ক্যাথোড ও অ্যানোডের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎপ্রবাহ চালনা করা হয়। এই ভোল্টেজ ৩০ হাজার ভোল্ট থেকে শুরু করে ১ লাখ ৪০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। এত উচ্চ ভোল্টেজ কোত্থেকে সাপ্লাই করা হয়? এক্স-রে মেশিনের সঙ্গে হাই-ভোল্টেজ জেনারেটর থাকে। সেই জেনারেটর এই ভোল্টেজ সাপ্লাই দেয়। শুধু এক্স-রে তৈরি হওয়ার সময় জেনারেটর চালু হয় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক সেকেন্ডের বেশি সময় লাগে না।
ক্যাথোড ও অ্যানোডের মধ্যে তীব্র আকর্ষণের ফলে ক্যাথোডের ফিলামেন্ট থেকে কোটি কোটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে অ্যানোডের দিকে ছুটে যায়। ভোল্টেজ যত বেশি হয়, ইলেকট্রনের গতিশক্তি তত বেশি হয়, ফলে তত বেশি জোরে গিয়ে অ্যানোডের গায়ে ধাক্কা দেয়। এই ইলেকট্রন অনেক জোরে এসে অ্যানোডের ইলেকট্রনের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। অ্যানোডের পদার্থের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস অনুযায়ী ইলেকট্রনগুলো বিভিন্ন শক্তিস্তরে থাকে। সবচেয়ে ভেতরের শক্তিস্তর K কক্ষপথের ইলেকট্রনের সঙ্গে যদি ফিলামেন্ট থেকে আগত ইলেকট্রনের সংঘাত হয়, তবে K কক্ষপথের ইলেকট্রন কক্ষচ্যুত হয়। তখন সেখানে একটা খালি জায়গা তৈরি হয়। এই জায়গা পূরণ করার জন্য K কক্ষপথের বাইরের কক্ষপথ L বা M বা N কক্ষপথের ইলেকট্রন হুড়োহুড়ি করে ভেতরের দিকে যায়।
বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রনের শক্তি ভেতরের কক্ষপথের ইলেকট্রনের শক্তির চেয়ে বেশি। তাই বাইরে থেকে ভেতরের কক্ষপথে গিয়ে জায়গা দখল করলে সেই ইলেকট্রন তার অতিরিক্ত শক্তি ত্যাগ করে। যে শক্তিটা ত্যাগ করে, সেটাই হলো এক্স-রে। এই শক্তি বহন করে কোয়ান্টাম কণা ফোটন, যাকে বলা হয় এক্স-রে ফোটন। এভাবে কোটি কোটি ইলেকট্রন মিথস্ক্রিয়া ঘটায় সেকেন্ডের কম সময়ের মধ্যে। এভাবে তৈরি হওয়া এক্স-রেকে বলা হয় ক্যারেক্টারিস্টিক এক্স-রে। এ ধরনের এক্স-রের শক্তি নির্দিষ্ট মাত্রার থাকে।
ক্যাথোড ও অ্যানোডের মধ্যে তীব্র আকর্ষণের ফলে ক্যাথোডের ফিলামেন্ট থেকে কোটি কোটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে অ্যানোডের দিকে ছুটে যায়। ভোল্টেজ যত বেশি হয়, ইলেকট্রনের গতিশক্তি তত বেশি হয়।
আরেক ধরনের এক্স-রেও তৈরি হয়, একই সঙ্গে যার শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়। সেটা কীভাবে হয়? এই যে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলেকট্রন ফিলামেন্ট থেকে বের হয়ে প্রচণ্ড বেগে ঝাঁপিয়ে পড়ে অ্যানোডের গায়ে, সেখানে পরমাণুর শক্তিস্তরের কোনো ইলেকট্রনের সঙ্গে যদি সংঘর্ষ না ঘটে, তাহলে কী হয়?
ইলেকট্রনগুলো তখন সব শক্তিস্তর অতিক্রম করে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের দিকে অগ্রসর হয়। নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জযুক্ত। ঋণাত্মক ইলেকট্রন স্বাভাবিকভাবেই তার দিকে আকৃষ্ট হবে। কিন্তু নিউক্লিয়াস তো ইলেকট্রনকে কিছুতেই ভেতরে ঢুকতে দেয় না প্রয়োজনীয় শক্তি নেই বলে। তখন ইলেকট্রনের গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রচুর শক্তি বের হয়ে যায়। এই বের হয়ে যাওয়া শক্তিগুলোও এক্স-রে। এগুলোকে বলা হয় ব্রামস্টারলাং (জার্মান শব্দ, যার অর্থ ভেঙে যাওয়া বিকিরণ) এক্স-রে। এ ধরনের এক্স-রের পরিমাণই মূলত বেশি থাকে। তাহলে দেখা যাচ্ছে ইলেকট্রনের সঙ্গে ইলেকট্রনের মিথস্ক্রিয়াতেই এক্স-রে তৈরি হয়। যত বেশি ইলেকট্রন, যত বেশি জোরে গিয়ে ধাক্কা দিতে পারবে, তত বেশি এক্স-রে তত বেশি শক্তি নিয়ে তৈরি হবে।
ক্যাথোড থেকে বেশি ইলেকট্রন তৈরি করার জন্য সেখানে টাংস্টেন ফিলামেন্ট ব্যবহার করা হয়। কারণ, এই ফিলামেন্ট প্রায় আড়াই হাজার ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও গলে না। আবার তার পারমাণবিক ভরও তুলনামূলকভাবে বেশি (৭৪)। এক পরমাণু টাংস্টেনে ৭৪টি ইলেকট্রন থাকে। তাহলে এক ইঞ্চি ব্যাসের ফিলামেন্টে কোটি কোটি কোটি ইলেকট্রন থাকে।
নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জযুক্ত। ঋণাত্মক ইলেকট্রন স্বাভাবিকভাবেই তার দিকে আকৃষ্ট হবে। কিন্তু নিউক্লিয়াস তো ইলেকট্রনকে কিছুতেই ভেতরে ঢুকতে দেয় না প্রয়োজনীয় শক্তি নেই বলে।
আবার অন্যদিকে অ্যানোডে টার্গেট হিসেবেও ব্যবহার করা হয় টাংস্টেন। এই অ্যানোড খুবই শক্ত এবং প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার ব্যাসের ধাতব চাকতি, যা মেশিন চালু অবস্থায় মিনিটে প্রায় কয়েক হাজারবার ঘুরতে পারে। এখানেও প্রচুর ইলেকট্রন। ফলে ফিলামেন্ট থেকে আসা ইলেকট্রনের সঙ্গে অ্যানোডের ইলেকট্রনের ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এ রকম প্রচণ্ড সংঘর্ষের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় এখানে। টাংস্টেন সেই তাপ সহ্য করতে পারে।
এক্স-রে টিউবছবি: উইকিপিডিয়া
এক্স-রে থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটে। এই বিকিরণ যেন ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য অনেক নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। এক্স-রে টিউব থেকে উৎপন্ন এক্স-রে রোগীর শরীরে একদিকে প্রবেশ করে অন্যদিকে বের হয়ে যায়। বের হয়ে যাওয়ার সময় এক্স-রেগুলোকে ইলেকট্রনিক ডিটেক্টরে ধারণ করা হয়। সেখান থেকেই মূলত রেডিওগ্রাফ তৈরি করা হয়। এক্স-রে রোগীর শরীরের ভেতর দিয়ে আসার সময় কিছু অংশ শরীরের হাড় ও মাংসে শোষিত হয়। কী পরিমাণ শোষিত হয়েছে, তার হিসাব থেকেই মানুষের ভেতরের চিত্র তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াগুলো এখন কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হয়ে যায়।
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক, বায়োমেডিকেল ফিজিকস, আরএমআইটি, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
বিশ্ববাজারে এক বছর ধরে সোনার দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বলা যায়, সোনার প্রতি আকর্ষণ নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছায়। এরপর অবশ্য সোনার দামের ঊর্ধ্বগতি থেমেছে। এখন তা ৫ হাজার ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস, সোনার দাম আউন্সপ্রতি সাত হাজার ডলারে উঠতে পারে।
দেখা যাক, সোনার দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়, বিভিন্ন বাজারে সোনার দাম কত আর কোন দেশগুলোর হাতে সোনার মজুত সবচেয়ে বেশি। খবর আল–জাজিরা
সোনার মূল্য নির্ধারণ
সোনা বা সোনাভিত্তিক পণ্যের মূল্য বুঝতে হলে দুটি বিষয় জানা জরুরি। একটি হলো ওজন (ট্রয় আউন্সে), আরেকটি বিশুদ্ধতা (ক্যারেটে)।
বিশ্ববাজারে সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতুর ওজন সাধারণত ট্রয় আউন্সে পরিমাপ করা হয়। এক ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম। ধরা যাক, প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলার। সেই হিসাবে ১ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১৬০ ডলার। এই হিসাবে এক কেজি ওজনের সোনার বারের দাম পড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
ট্রয় আউন্সের হিসাব আর সাধারণ আউন্সের হিসাব এক নয়। সাধারণ আউন্সের ওজন ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম। খাদ্যসহ দৈনন্দিন পণ্যের ওজন মাপতে এই হিসাব ব্যবহৃত হয়।
বিশুদ্ধতা (ক্যারেট)
দেশের বাজারে যখন সোনার দাম বাড়ে বা কমে, তখন সেই সংবাদে অবধারিতভাবে যে বিষয়টি থাকে, তা হলো কোন ক্যারেটের সোনার দাম কত। অর্থাৎ ২২ ক্যারেট ২১ ক্যারেট বা ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম পৃথকভাবে উল্লেখ করা থাকে।
এই ক্যারেট হলো সোনার বিশুদ্ধতার মানদণ্ড। খাঁটি সোনা ২৪ ক্যারেট। ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট বা সনাতনী পদ্ধতির সোনার সঙ্গে রুপা, তামা বা দস্তার মতো কম দামি ধাতুর মিশ্রণ থাকে।
সোনার বিশুদ্ধতা বোঝাতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার গয়নায় নির্দিষ্ট চিহ্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। যেমন ২৪কে বা ৯৯৯ মানে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বিশুদ্ধ। ১৮কে গয়নায় সাধারণত ৭৫০ লেখা থাকে, অর্থাৎ এটি ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ। দেখে নেওয়া যাক, কোন ধরনের সোনার কী বৈশিষ্ট্য—
২৪ ক্যারেট: ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বিশুদ্ধ। গাঢ় কমলা আভা, নরম, মরিচা ধরে না। সাধারণত বিনিয়োগের কয়েন বা বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২২ ক্যারেট: ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ বিশুদ্ধ। গাঢ় কমলা রং, মাঝারি মানের টেকসই, মরিচা প্রতিরোধী, বিলাসবহুল গয়নায় ব্যবহৃত হয়।
১৮ ক্যারেট: ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ। হলুদ রং, বেশি টেকসই, সময়ের সঙ্গে কিছুটা মলিন হতে পারে, উন্নতমানের গয়নায় ব্যবহৃত হয়।
৯ ক্যারেট: ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বিশুদ্ধ। ফিকে হলুদ রং, সবচেয়ে টেকসই, সময়ের সঙ্গে মলিন হয়, কম দামি গয়নায় ব্যবহৃত হয়।
এ ছাড়া ১৪ ক্যারেট (৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ বিশুদ্ধ) ও ১০ ক্যারেট (৪১ দশমিক ৭ শতাংশ বিশুদ্ধ) সোনাও বিভিন্ন দেশে প্রচলিত। গয়নার দাম সাধারণত নির্ভর করে সেদিনের সোনার স্পট মূল্য, তৈরির খরচ ও করের ওপর।
গ্রাহক যদি পণ্যের সঠিক ওজন ও ক্যারেট সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তাহলে মূল দামের সঙ্গে কারিগরি খরচ যোগ করে হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন। সাধারণত স্পট মার্কেটে সোনার দাম নিয়ে দর–কষাকষি করা যায় না, তবে তৈরির খরচ নিয়ে অনেক সময় দরদাম সম্ভব।
১০ বছরে সোনার দাম চার গুণ
সোনার কদর আজকের নয়, হাজার হাজার বছর ধরে এটি বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মুদ্রা, গয়না ও সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহার রয়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা বাজারের অস্থিরতা—এমন সময় মানুষ সাধারণ ‘নিরাপদ আশ্রয়’ সোনার দিকে ধাবিত হন।
একসময় সোনার মান সাপেক্ষে বাজারে মুদ্রা ছাড়া হতো। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত মার্কিন ডলার সোনার মানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ক্লাসিক্যাল গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ১৮৩৪ সাল থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রায় এক শতাব্দী ধরে ২০ ডলারের বিনিময়ে ব্যাংক থেকে এক আউন্স সোনা পাওয়া যেত। মহামন্দার সময় ১৯৩৩ সালে অর্থনীতি চাঙা করতে সোনার দাম বাড়িয়ে প্রতি আউন্স ৩৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু ১৯৭১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ডলারকে সোনা থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর বাজারশক্তির ভিত্তিতে সোনার দাম নির্ধারণ শুরু হয়। গত এক দশকে সোনার দাম চার গুণ বেড়েছে—২০১৬ সালে যেখানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ২৫০ ডলার, বর্তমানে তা ৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো এক্সচেঞ্জে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার স্পট মূল্য নির্ধারিত হয় মার্কিন ডলারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থানীয় বাজারে এই দাম দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন ব্যয় ও চাহিদা অনুযায়ী প্রিমিয়াম।
কোন দেশের বাজারে সোনার দাম কত পড়বে, তার সঙ্গে সেই দেশের শুল্কনীতির যোগ আছে। যেমন ভারতের বাজারে সোনা ৩ শতাংশ জিএসটি আরোপ করা হয়, যদিও যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিনিয়োগের জন্য সোনা কিনতে কর দিতে হয় না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় বৈশিষ্ট্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সাপেক্ষে স্বর্ণমুদ্রা ও বার তৈরি হয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ইগল, চীনের গোল্ড পান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার করুগারর্যান্ড উল্লেখযোগ্য।
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনার মজুত বৃদ্ধি করেছে। সোনার দাম যে এতটা বেড়েছে, তার পেছনে এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোরও ভূমিকা আছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সোনা মজুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, ৮ হাজার ১৩৩ টন। দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি, তাদের কাছে আছে ৩ হাজার ৩৫০ টন। তৃতীয় স্থানে ইতালি—তাদের হাতে আছে ২ হাজার ৪৫১ টন।
তল্লাশির জন্য থামতে নির্দেশ দেওয়ার পরও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল—এমন দাবি করে চীনের একটি মাছ ধরা নৌযান আটকের কথা জানিয়েছে জাপান। দেশটির কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ বেইজিংয়ের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে।
জাপানের মৎস্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চীনা নৌযানটি নাগাসাকি উপকূলে জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে (ইইজেড) অবস্থান করছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সেটি আটক এবং নৌযানের ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংস্থা বলেছে, ‘একজন মৎস্য পরিদর্শক তল্লাশির জন্য নৌযানের ক্যাপ্টেনকে থামতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নৌযানটি নির্দেশ না মেনে পালানোর চেষ্টা করে।’
সংস্থা আরও বলেছে, ২০২২ সালের পর এই প্রথম তারা কোনো চীনা মাছ ধরা নৌযান জব্দ করল। নৌযানে ক্যাপ্টেনসহ ১১ জন আরোহী ছিলেন। ক্যাপ্টেন ৪৭ বছর বয়সী চীনা নাগরিক। জাপানের এ বক্তব্যে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি চীন।
জাপান কর্তৃপক্ষ ও দেশটির সংবাদমাধ্যম আটক করা নৌযানকে উচ্চ ধারণক্ষমতার ‘টাইগার নেট ফিসিং বোট’ বলে বর্ণনা করেছে।
নৌকা জব্দের এ ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আগে থেকেই টানাপোড়েন চলছে।
গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছিলেন, বেইজিং যদি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তবে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে। তাঁর ওই মন্তব্যে চীন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশ মনে করে, যারা একদিন আবার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে। এ জন্য প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি বেইজিং।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকাইচির মন্তব্যকে ‘চরম আপত্তিকর’ বলে বর্ণনা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। জাপানকে সতর্ক করে ‘আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতেও’ বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া প্রতিক্রিয়া দেখাতে বেইজিংয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয় এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ ও পড়াশোনার বিষয় পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গল গ্রহ—যে গ্রহ জয় করার আগ্রহ মানুষের সবচেয়ে বেশি। যুগ যুগ ধরে মানুষ কল্পনা করেছে মঙ্গলে বসবাস করার। এই গ্রহের লাল রং বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্য। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার হচ্ছে। তবু এতে লুকিয়ে আছে এমন অনেক বিস্ময়কর জিনিস, যা এখনো সবার জানা নাই। বিস্ময়কর এমন ৭ তথ্য নিয়ে এই লেখা।
আসহাবিল ইয়ামিন
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৫, ০৯: ০০
শেয়ার করুন
১. সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ মঙ্গল। রোমানদের যুদ্ধের দেবতা মার্সের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। ১৬১০ সালে গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহটি পর্যবেক্ষণ করেন।
২. মঙ্গল গ্রহকে আমরা যে ‘লাল গ্রহ’ বলে চিনি, এর কারণ হলো এর পৃষ্ঠের রং লালচে। এই বিশেষ লাল রংটি আসে মূলত মঙ্গলের পাথর এবং মাটিতে প্রচুর পরিমাণে থাকা একটি রাসায়নিক পদার্থ থেকে, যার নাম আয়রন অক্সাইড (Iron Oxide)।
৩. বুধের পরে সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ মঙ্গল। মঙ্গলের ব্যাস ৬ হাজার ৭৭৯ কিলোমিটার, যা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক।
৪. সূর্যের আলো মঙ্গলে পৌঁছাতে প্রায় ১৩ মিনিট সময় লাগে। এ গ্রহের দুটি উপগ্রহ রয়েছে। ফেবোস ও ডেমোস। ১৮৭৭ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিদ আসাফ হল উপগ্রহ দুটি আবিষ্কার করেন। মঙ্গলের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে মাইনাস ১৫৩ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে।
৫. সৌরজগতের সবচেয়ে বেশি পর্বত আছে মঙ্গলে। সবচেয়ে গভীর ও দীর্ঘতম পর্বত অলিম্পাস মুন। এটি প্রায় ২৭ কিলোমিটার উঁচু, যা মাউন্ট এভারেস্টের চেয়ে প্রায় তিনগুণ। এটা সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে একটি।
৬. ঢাকা শহরে তোমার ওজন ৪৫ কেজি হলে মঙ্গল গ্রহে তোমার ওজন হবে ১৭ কেজি। মঙ্গল গ্রহে তুমি পৃথিবীর চেয়ে তিনগুণ উঁচুতে লাফ দিতে পারবে। এর কারণ হলো মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণ (Gravity), অর্থাৎ যে শক্তি আমাদের মাটিতে টেনে ধরে রাখে, তা পৃথিবীর তুলনায় অনেক দুর্বল।
৭. মঙ্গল গ্রহে যে শুধু সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরিটি রয়েছে, তা নয়। সেখানে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গিরিখাতও রয়েছে। এর নাম ভ্যালিস মেরিনারিস। এটি প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ—পৃথিবীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের চেয়ে প্রায় চারগুণ বড়।
১৮৭৭ সাল। এক গ্রীষ্মের রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বসে আকাশ পর্যবেক্ষণ করছিলেন জ্যোতির্বিদ আসাফ হল। তখন মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর খুব কাছে এসেছিল। টেলিস্কোপে আকাশ দেখতে দেখতে তাঁর মনে একটা প্রশ্ন এল। লাল গ্রহটির কোনো চাঁদ বা উপগ্রহ আছে?
প্রশ্নটা মাথায় গেঁথে ছিল হলের। টানা কয়েক রাত ঘনকুয়াশার মধ্যে বসে তিনি মঙ্গল গ্রহের চাঁদ খুঁজলেন। তারপর অবাক হয়ে দেখলেন, একটা নয়, লাল গ্রহটির রয়েছে দুটি চাঁদ। তিনি এদের নাম দিলেন ফোবোস আর ডিমোস। গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, এরা হলো যুদ্ধের দেবতা অ্যারিস আর প্রেমের দেবী আফ্রোদিতির দুই যমজ সন্তান। এরাও ভয় ও আতঙ্কের দেবতা।
তবে হলের আবিষ্কৃত চাঁদ দুটি আমাদের চাঁদের মতো নয়। আমাদের চাঁদের ব্যাস প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। কিন্তু ফোবোস আর ডিমোস অনেক ছোট। ফোবোসের গড় ব্যাস মাত্র ২২ কিলোমিটার। আর ডিমোসের মাত্র ১২ কিলোমিটার। এদের আকার একটু এলোমেলো। কারণ, এরা পুরোপুরি গোল নয়। দেখতে অনেকটা আলুর মতো এবড়োখেবড়ো। রং একেবারে কালো, নতুন পিচঢালা রাস্তার মতো।
আমরা জানি, চাঁদ হলো এমন কোনো বস্তু, যা একটা গ্রহের চারদিকে ঘুরতে থাকে। কিন্তু ফোবোস আর ডিমোসের আকার ও রূপ দেখে অনেক বিজ্ঞানী বললেন, এগুলো চাঁদের চেয়ে বেশি গ্রহাণুর মতো দেখায়। কিন্তু এরা যেহেতু উপগ্রহ হওয়ার শর্ত ভাঙেনি, তাই এই দুটি বস্তুকে মঙ্গল গ্রহের চাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এখন ছোট্ট বন্ধুদের মনে একটা প্রশ্ন আসতে পারে, এই দুটি চাঁদ এল কোথা থেকে? বিজ্ঞানীদের ধারণা, এগুলো আগে গ্রহাণু ছিল। তারপর মঙ্গল গ্রহের মহাকর্ষশক্তিতে আটকে গেছে। মানে মঙ্গল গ্রহের টান ছেড়ে আর বেরোতে পারেনি।
তবে আরেকটা তত্ত্ব বলে, কোনো বড় বস্তু একসময় মঙ্গলে ধাক্কা মেরেছিল। সেই সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ থেকে এই দুই চাঁদ তৈরি হয়েছে। আমাদের চাঁদও হয়তো এভাবেই তৈরি হয়েছিল।
তবে দুটো তত্ত্বেরই কিছু সমস্যা আছে। ফোবোস আর ডিমোসের গঠন দেখলে মনে হয় এরা গ্রহাণু ছিল। কিন্তু মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি তুলনামূলক কম। দুটো গ্রহাণুকে ধরে রাখা এবং এমন নিয়মিত কক্ষপথে ঘোরানো এই গ্রহের পক্ষে কঠিন। আবার সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, দুই চাঁদের গঠনে সামান্য পার্থক্য আছে। এতে বিষয়টা আরও জটিল হয়ে গেছে।
তবে শিগগিরই হয়তো এ রহস্যের সমাধান পাওয়া যাবে। জাপানের মহাকাশ সংস্থা জাকসা ২০২৬ সালে একটা বিশেষ মিশন পাঠাবে মঙ্গল গ্রহে। মিশনটির নাম রাখা হয়েছে মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন বা সংক্ষেপে এমএমএক্স। এ মিশনে মঙ্গলের দুটি চাঁদ পরীক্ষা করা হবে। এমনকি ফোবোস থেকে নমুনা নিয়ে ফিরবে পৃথিবীতে।
সেই নমুনা পরীক্ষা করলেই জানা যাবে, ফোবোস আর ডিমোস আসলে কী। যদি এরা আগে গ্রহাণু হয়ে থাকে, তাহলে তাদের রাসায়নিক গঠন হবে একরকম। আর যদি মঙ্গলের টুকরা থেকে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে হবে অন্য রকম।
যদি দেখা যায় এই চাঁদগুলো সত্যিই মঙ্গলের সংঘর্ষের ফল, তাহলে আরও রোমাঞ্চকর আবিষ্কার হতে পারে। কারণ, তখন এই নমুনা হবে প্রাচীন মঙ্গলের টুকরা। আর প্রাচীন মঙ্গল হয়তো জীবনের জন্য উপযুক্ত ছিল। এই নমুনা থেকে হয়তো জানা যাবে, মঙ্গলে কখনো প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলের চাঁদ দুটোর উৎপত্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই ছোট্ট চাঁদগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের সৌরজগতের অনেক রহস্য। হয়তো আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা জানতে পারব এই দুই যমজ চাঁদের আসল পরিচয়।
ইতালিকে ১০ উইকেটের জয়ে এনে দিয়েছেন মস্কা ভাইয়েরাএএফপি
এবারই প্রথমবার ক্রিকেটে কোনো বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে ইতালি। আর বিশ্ব মঞ্চে আবির্ভাবের দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেয়ে গেল ইতালিয়ানরা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে ইতালি। ১২৪ রানের লক্ষ্য ১২.৪ ওভারেই পেরিয়ে গেছে দলটি।
ইতালির জয়ের নায়ক বোলাররা ও মস্কা ভাইয়েরা। রান তাড়ায় ব্যাটিং উদ্বোধন করেছেন এই দুই ভাই। জাস্টিন মস্কা ৬০ রানে ও অ্যান্টনি মস্কা ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ঠিক আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের ঘাম ছুটিয়ে ফেলা নেপাল আজ পাত্তাই পায়নি ইতালির কাছে। টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে নেপালিদের ১২৩ রানে অলআউট করে ইতালি। নেপালিরা আজ ম্যাচে ছিল ইনিংসের ১৪তম ওভার পর্যন্ত। ১৩.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৩ রান তুলে ফেলেছিল দলটি। দীপেন্দ্র সিং ঐরীকে বোল্ড করে ধসের সূচনা করেন লেগ স্পিনার কৃষাণ কালুগামাগে। এরপর মাত্র ৩০ রান যোগ করতে পারে নেপাল। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার কালুগামাগে। ২ উইকেট নিলেও ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়েছেন অফ স্পিনার বেন মানেন্তি।
৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন কৃষাণ কালুগামাগেএএফপি
নেপালের হয়ে আরিফ শেখ করেছেন সর্বোচ্চ ২৭ রান, অধিনায়ক রোহিত পৌডেল করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান।
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর বাকি কয়েকটা দিন। কমবেশি রোজার পণ্য কেনা শুরু করেছেন ভোক্তারা। এর মধ্যেই রোজার অন্যতম পণ্য খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধরনভেদে খেজুরের দাম প্রতি কেজি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় দাম বেড়েছে গরুর মাংস, কয়েক ধরনের মাছ ও ফলের। তবে ছোলা, ডাল, চিনি প্রভৃতি পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
পাইকারি বিক্রেতারা জানান, খেজুরের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পাইকারিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তাঁরা পাইকারি থেকে বেশি দামে কিনছেন, তাই ভোক্তাদের কাছেও আগের চেয়ে বেশি দামে খেজুর বিক্রি করতে হচ্ছে। আর শুল্ক বেশি থাকায় ফলের দাম অনেক দিন ধরেই চড়া।
সাধারণত রোজার সময় লোকজন ইফতারে খেজুর খেয়ে থাকেন। তাই এ সময় বাজারে খেজুরের চাহিদা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে রোজার সময় বিক্রি হয় চাহিদার ৭০ শতাংশ খেজুর।
রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ ও বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখতে গত ডিসেম্বর মাসে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে সরকার। গত বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাজারে বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেজুরের সরবরাহ রয়েছে। ক্রেতারাও রোজা উপলক্ষে খেজুর কেনা শুরু করেছেন। তবে দাম বাড়ছে দেখে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন কেউ কেউ।
বর্তমানে বাজারে কম দামে বিক্রি হয় জাহিদী খেজুর; কেজি ২৮০ টাকা। এই খেজুরের দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২৫০ টাকার আশপাশে। অন্যান্য ধরনের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০-৭০০ টাকা; সুক্কারি ৭০০-৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ফল বিক্রেতা রাকিব মুন্সি জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
তবে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাইকারি পর্যায়ে খেজুরের দাম বাড়েনি। বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। খেজুরের সরবরাহেও কোনো সংকট নেই। খুচরা বাজারে কেন দাম বেড়েছে বলতে পারব না।’
খেজুরের পাশাপাশি গরুর মাংস, কয়েক ধরনের মাছ ও বিভিন্ন ধরনের ফলের দামও কিছুটা বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে এই দাম কেজিতে ৫০ টাকা কম ছিল। মাছের মধ্যে রুই, শিং, কই, পাবদা প্রভৃতি মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে।
রোজার সময় ইফতারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফলের চাহিদা বাড়ে। গত এক মাসের মধ্যে আপেল, নাশপাতি, আনার, কমলার দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে। ফলের মূল্যবৃদ্ধি বিষয়ে আমদানিকারক সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতি কেজি বিদেশি ফলে ১২৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক-কর দিতে হয়। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ যোগ করলে এমনিতেই ফলের দাম বেড়ে যায়। শুল্ক কমলে ফলের দামও কমবে।
অন্যান্য পণ্যের দামের চিত্র
এদিকে পবিত্র রমজান মাসের অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। বেশির ভাগ পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম। যেমন রোজার অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য ছোলা। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলার দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকা। গত বছর ছোলার কেজি ছিল ১১০-১২০ টাকা। বুটের ডাল, খেসারি ও অ্যাংকর ডালের দামও গত বছরের তুলনায় ১০-২০ টাকা কম রয়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত বছরের তুলনায় চিনির দাম ১৭ শতাংশ কম। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা চিনি ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাসিন্দা নিঘাত পারভীন বলেন, ‘রোজা শুরুর আগেই খেজুরের দাম বাড়ছে। মাংস, মাছের দামও বেড়েছে। এভাবে কিছু পণ্যের দাম কমে, আবার কিছু পণ্যের বেড়ে যায়। আমাদের তো খরচ কমে না।’
বাজারে এখন বিদেশি কমলার ছড়াছড়ি, আছে মাল্টাও। কিনতে গেলেই দেখবেন তিন থেকে চার রকমের মাল্টা আর কমলা। এসবের দামও আলাদা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে জানা গেল কোনটা কোন দেশের; দামই–বা কেমন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নানা দেশের কমলা পাওয়া যাচ্ছেছবি: ফারদীন–ই–হাসান ফুয়াদ
কমলা-মাল্টার রকমফের
কমলার দাম ও স্বাদের পার্থক্য হয় মূলত সেসব কোন দেশ থেকে এসেছে, তার ওপর। বাজার ঘুরে চার ধরনের কমলা পাওয়া গেল। বাজারে বেশি আছে চীনা কমলা। দোকানিদের ভাষায় ‘ম্যান্ডা’। এসব কমলা মাঝারি আকৃতির। ত্বক মসৃণ। আরেক ধরনের চীনা কমলা আছে। সেসব আকারে ছোট। প্রায় সব দোকানেই জালের মধ্যে ছোট ছোট কমলাগুলো ঝুলে থাকতে দেখা যায়।
ভুটানের কমলাছবি: ফারদীন–ই–হাসান ফুয়াদ
চীনা কমলা ছাড়াও বাজারে আছে ভুটান, ভারত ও নেপালি কমলা। ভুটানি কমলা তুলনামূলক মিষ্টি বলে চাহিদা বেশি। আকার মাঝারি। এর চেয়ে বড় একধরনের কমলা আছে, ত্বকে সবুজ ছোপ থাকে। এটি মূলত ভারতীয় কমলা। বাজারে মাল্টা আছে তিন ধরনের—মিসরীয়, দক্ষিণ আফ্রিকান ও চীনা। আমরা সচরাচর যে মাল্টা দেখি, সেটি দক্ষিণ আফ্রিকার। মিসরের মাল্টা কিছুটা লালচে রঙের।
কমলা কোন দেশ থেকে আসছে, আকার এবং স্বাদ কেমন, তার ওপর দামে ভিন্নতা দেখা যায়। কমলা আর মাল্টার দামেও আছে পার্থক্য। কমলার দাম মাল্টার থেকে তুলনামূলক বেশি। এখন বাজারে প্রতি কেজি কমলা ১৮০-৩৫০ টাকা এবং মাল্টা ২২০-২৮০ টাকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাল্টাছবি: ফারদীন–ই–হাসান ফুয়াদ
দোকানিরা জানালেন, তুলনামূলক বেশি মিষ্টি বলে ভুটানি কমলা বেশি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ২২০-২৪০ টাকা করে। যাঁরা একটু রসাল কমলা পছন্দ করেন, তাঁরা কেনেন ভারতীয় কমলা। সবুজ ছোপের এই কমলার দাম প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা। চীনা কমলা ২৩০-২৬০ টাকা প্রতি কেজি। মাঝারি আকৃতির কারণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরবরাহের জন্য এই কমলা নেওয়া হয়। আর জালে রাখা ছোট চীনা কমলা ২০০-২২০ টাকা প্রতি কেজি। নেপালি কমলা প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকা।
মিসরীয় মাল্টাছবি: ফারদীন–ই–হাসান ফুয়াদ
বাজারে মিসরীয় মাল্টা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৮০ টাকায়। মাল্টার মধ্যে তুলনামূলক মিষ্টি দক্ষিণ আফ্রিকার মাল্টা। আকৃতিভেদে এটি দুই ধরনের হয়। বড় আকৃতির মাল্টা ২৬০ টাকা, ছোটগুলো ২২০ টাকা। চীনা মাল্টা কিছুটা টক, দাম কেজি প্রতি ২০০-২২০ টাকা।
দোকানিরা জানালেন, তাঁরা রাজধানীর বাদামতলী ফলের আড়ত থেকে এসব কমলা ও মাল্টা আনেন। তাঁদের কেনা দামের তারতম্যের কারণে দোকানভেদে দামে পার্থক্য হয়। দোকানের চেয়ে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে দাম কিছুটা কম। আবার দামাদামি করতে পারলে কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমাতে পারবেন।
ভারতীয় কমলাছবি: ফারদীন–ই–হাসান ফুয়াদ
মাল্টার চেয়ে কমলার চাহিদা বেশি
মোটরসাইকেলে বসেই একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানের সামনে দাঁড়ালেন মো. ফেরদৌস। খুঁজছিলেন ছোট আকারের কমলা। পরপর দুই দোকানে দামাদামি করে কিনলেন জালে রাখা ছোট চীনা কমলা। তিনি জানালেন, পরিবারের জন্য কিনলেন, আগে এই ছোট কমলা কেনেননি।
চীনা ছোট কমলাছবি: ফারদীন–ই–হাসান ফুয়াদ
একই দোকানে ভুটানি কমলার খোঁজ করছিলেন ষাটোর্ধ্ব ফারুক আহমদ। দোকানি আখতার হোসেন জানালেন, মাল্টার চেয়ে কমলার চাহিদা বেশি। তিনি বলেন, ‘কমলা বেশি চলে। মাল্টা আনি না। একবার আইনা তিন দিন ধরে বেঁচছি।’ পরিবার ছাড়াও রোগী দেখতে, আত্মীয়ের বাড়ি যেতে এবং অনুষ্ঠানের জন্য মানুষ কমলা কেনে বলে জানান বিক্রেতারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ঘোষিত সাধারণ ও বিশেষ ছুটির কারণে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। সোমবার ও মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমে ঢাকার আশপাশের মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষায় থাকেন। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ধীরগতিতে যান চলাচল হয়। কলেজগেট ও গাজীপুরা এলাকায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তঃজেলা ও স্থানীয় বাসগুলো স্বাভাবিক রুট ছেড়ে অতিরিক্ত ট্রিপ চালাচ্ছে, যাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
সাধারণ যাত্রীদের বাসভাড়া চরমভাবে বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে যেখানে সাধারণত ৫০০–৫৫০ টাকা বাসভাড়া, সেখানে কিছু বাস ৬০০–৭৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। বাস না পেয়ে অনেকে ট্রাকেও উঠতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে জনপ্রতি ৩০০–৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ছিল, এবং নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সর্বদা সাধারণ ছুটি থাকে।
রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের এই ঢল ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করেছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ছোট ও মধ্যম আয়ের শ্রেণির যাত্রীদের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরিস্থিতি যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।